Published : 03 Jul 2026, 07:21 AM
নতুন হিজরি বছরের আগমন উপলক্ষে পবিত্র কাবা শরীফের ঐতিহ্যবাহী গিলাফ বা কিসওয়া প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সৌদি আরব এবং দেশটির কারিগরদের ইসলামি শিল্পকর্মে যে গভীর যত্ন ও দক্ষতা প্রতিফলিত হয়েছে, তা বিশেষভাবে চোখে পড়েছে। মঙ্গলবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, কিসওয়া পরিবর্তন করা মসজিদুল হারামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথা। মক্কার ‘কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া’ তৈরির এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন হতে দীর্ঘ কয়েক মাস লেগেছিল। এই নতুন কিসওয়া তৈরিতে প্রায় দেড়শো সৌদি কারিগর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। দীর্ঘ এগারো মাসের প্রচেষ্টায়, ৪৭টি বিলাসবহুল কালো রেশমি কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
কিসওয়ার উপর পবিত্র কোরআনের ত্রিশটি আয়াত সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা হয়েছে এবং এর ওপর রূপালী সুতার সাথে চব্বিশ ক্যারেট সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। পুরো গিলাফটির ওজন এক হাজার চারশো বিশ কেজি। কারিগররা কেবল কিসওয়া নয়, কাবাঘরের মিজাব, কোনা এবং অন্যান্য অংশে স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া সুতার কারুকার্য, হিজাম, সামাদিয়াহ, লণ্ঠন আকৃতির অলংকরণসহ অসংখ্য উপাদান সংযোজন করে এক অসাধারণ ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তির দৃশ্যপট সৃষ্টি করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি অবিচ্ছিন্ন কাপড়ের অংশ মনে হলেও, এটি আসলে বিভিন্ন বিশেষ ধরনের কাপড়ের এক চমৎকার সংমিশ্রণ। কাঠামো, উজ্জ্বলতা এবং স্থায়িত্বের দিকে নজর রেখে বিভিন্ন ধরনের বস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কিসওয়ার প্রধান অংশটি কালো রেশম দিয়ে তৈরি, যা এর বাইরের আবরণকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে।
এই নকশায় কোরআনের আয়াত খোদাই এবং অলংকরণের জন্য বিশেষ রেশমি কাপড়ের ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কিসওয়াকে আরও টেকসই ও মজবুত করার জন্য এর অভ্যন্তরে ঘিয়ে রঙের সুতি কাপড় আস্তর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত অংশে সাদা সুতি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু সাজসজ্জায় লাল রেশম এবং কাবার দরজার পর্দার পেছনের অংশে সবুজ রেশমি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। এই সমস্ত উপকরণের সমন্বয়ে এক সূক্ষ্ম উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অসাধারণ কিসওয়াটি তৈরি হয়েছে, যা কারিগরদের অতুলনীয় দক্ষতা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর বহন করে। আরও পড়ুন কাবার গিলাফ ‘কিসওয়া’১৩ মে ২০২৫।